কিশোরী এবং তরুণীদের মাঝে বর্তমানে অন্যতম সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে PCOS (Polycystic Ovary Syndrome) বা PMOS (Polyendocrine Metabolic Ovarian Syndrome)। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।
PCOS-এর প্রধান লক্ষণসমূহ
লক্ষণগুলো চেনা থাকলে শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সহজ হয়:
- দেরিতে পিরিয়ড হওয়া: মাসিক নিয়মিত চক্র অনুযায়ী না হয়ে অনেক দেরিতে বা অনিয়মিতভাবে হওয়া।
- ওভারিয়ান সিস্ট: ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট ফলিকল বা সিস্টের উপস্থিতি।
- ওজন বৃদ্ধি: স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া বা ওভারওয়েট হওয়া।
- ব্রণ বা অ্যাকনে (Acne): হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে ত্বকে অতিরিক্ত ব্রণ ওঠা।
- হার্সুটিজম (Hirsutism): অতিরিক্ত হেয়ার গ্রোথ—বিশেষ করে চিবুক (Chin), গলা কিংবা বুকে অবাঞ্ছিত ঘন চুল গজানো।
শুরুতে শনাক্ত করতে দেরি হয় কেন?
কিশোরীদের ক্ষেত্রে রোগটি সহজে ধরা না পড়ার পেছনে বয়ঃসন্ধিকালের কিছু সাধারণ শারীরিক পরিবর্তন দায়ী:
- মাসিকের স্বাভাবিক অনিয়ম: বয়ঃসন্ধিতে (Adolescence) প্রথম পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর সাধারণত চক্র অনিয়মিত থাকে (২-৩ মাস পরপর হতে পারে)। ফলে অনিয়মিত পিরিয়ডকে সাধারণ সমস্যা ভেবে পরিবার বা কিশোরীরা গুরুত্ব দেয় না।
- বয়ঃসন্ধির হরমোনাল পরিবর্তন: এ বয়সে স্বাভাবিক হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এমনিতেই অনেকের মুখে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়, যা PCOS-এর ব্রণের সাথে গুলিয়ে যায়।
- ফলিকলের সংখ্যা: শুরুর দিকে ওভারিতে ফলিকল বা ডিমের সংখ্যা সাময়িকভাবে কিছুটা বেশি থাকতে পারে, যা পরবর্তীতে স্বাভাবিক ওভুলেশনে রূপ নেয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে এটি প্রায়শই বিভ্রান্তি তৈরি করে।
বয়ঃসন্ধির স্বাভাবিক পরিবর্তনের সাথে লক্ষণগুলো হুবহু মিলে যাওয়ার কারণেই মূলত PCOS শনাক্তে বড় ধরনের সময়ক্ষেপ বা গ্যাপ তৈরি হয়। তাই দীর্ঘমেয়াদে অনিয়মিত পিরিয়ড বা অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন নজরে এলে অবহেলা না করে একজন বিশেষজ্ঞ গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ নিন।