ডায়াবেটিস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। রক্তে সুগারের মাত্রা দীর্ঘসময় অনিয়ন্ত্রিত থাকলে নিম্নলিখিত জটিলতাগুলো দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে:
১. হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের জটিলতা: দীর্ঘদিন রক্তে সুগার বেশি থাকলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া এটি উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হৃদরোগের সম্ভাবনাকে আরও ত্বরান্বিত করে।
২. চোখের সমস্যা ও অন্ধত্ব: ডায়াবেটিসের কারণে চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে (রেটিনোপ্যাথি), যার ফলে অন্ধত্ব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার ২০-২৫ বছর পর এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
৩. কিডনি বিকল হওয়া: এটি ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান জটিলতা। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২৫% রোগীর ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ার ১০ বছর পর কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় কিডনি ৮০% কার্যকারিতা না হারানো পর্যন্ত কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
৪. স্নায়বিক সমস্যা (নিউরোপ্যাথী): দীর্ঘমেয়াদী ডায়াবেটিসের ফলে শরীরের স্নায়ু বা নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যাকে নিউরোপ্যাথী বলা হয়। এর ফলে হাত-পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা, অবশ হওয়া বা জ্বালাপোড়া করার মতো সমস্যা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসের কারণ হতে পারে।
৫. ডায়াবেটিস ফুট ও পা কেটে ফেলা: স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে পায়ের অনুভূতি কমে যায় (নিউরোপ্যাথি) এবং রক্তনালীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে পায়ে সামান্য ক্ষত হলে তা দ্রুত শুকায় না এবং গ্যাংগ্রিন বা পচন ধরতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত পা কেটে ফেলার (Amputation) মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।
৬. যৌন ও প্রজনন সমস্যা:
পুরুষদের ক্ষেত্রে: পুরুষত্বহীনতা, লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা এবং সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা দেখা দিতে পারে।
মহিলাদের ক্ষেত্রে: যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া, সহবাসে ব্যথা এবং গর্ভপাত বা প্রজনন ক্ষমতায় সমস্যা হতে পারে।
৭. অন্যান্য সমস্যা:
স্মরণশক্তি: দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস বুদ্ধি বা স্মরণশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিপাকতন্ত্র: বদহজম, পেটে ব্যথা বা গ্যাস্ট্রোপরোসিসের মতো সমস্যা হতে পারে।
চর্মরোগ: শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইনফেকশন বা কালো দাগ দেখা দিতে পারে।
মুখ ও দাঁত: মাড়ি ফুলে যাওয়া, দাঁত ক্ষয় হওয়া এবং মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস নিরাময় সম্ভব না হলেও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ঔষধের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রেখে এই সকল জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

