বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ থেকে ১৬ শতাংশ নারী হরমোনজনিত এক জটিল সমস্যায় ভোগেন, যা পূর্বে মূলত পিসিওএস (Polycystic Ovary Syndrome – PCOS) এবং বর্তমানে পিমোস (Polyendocrine Metabolic Ovarian Syndrome – PMOS) নামে পরিচিত। নারীদের বন্ধ্যাত্ব বা ইনফার্টিলিটির (Infertility) অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই সমস্যাটিকে।
কিশোরী বয়স থেকে শুরু করে সন্তান ধারণক্ষম যেকোনো বয়সের নারীর ক্ষেত্রে এটি দেখা দিতে পারে।
“পিসিওএস মানেই কিন্তু জটিল টিউমার নয়; হরমোনের ভারসাম্যহীনতা নিয়ন্ত্রণ করলেই সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব।”
পিসিওএস আসলে কীভাবে কাজ করে?
সাধারণত আমাদের মস্তিষ্ক ও পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে আসা হরমোন সরাসরি ডিম্বাশয় বা ওভারিতে কাজ করে। সেখান থেকে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোন নিঃসৃত হয়ে জরায়ু বা ইউট্রাসে প্রভাব ফেলে এবং পিরিয়ড নিয়মিত রাখে।
কিন্তু পিসিওএস-এ আক্রান্ত হলে হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে:
- সময়মতো ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন হয় না।
- ওভারির চারপাশে ছোট ছোট অসংখ্য পানির থলি বা সিস্ট তৈরি হয় (পলিসিস্টিক ওভারি)।
- শরীরে পুরুষ হরমোন বা অ্যান্ড্রোজেনের (Androgen) মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়।
পিসিওএসের ৩টি প্রধান লক্ষণ
চিকিৎসকের কাছে রোগীরা সাধারণত যে ৩টি মূল লক্ষণ নিয়ে আসেন:
- অনিয়মিত মাসিক চক্র: সময়মতো পিরিয়ড না হওয়া, ২-৩ মাস পরপর মাসিক হওয়া, রক্তক্ষরণ দীর্ঘস্থায়ী হওয়া কিংবা ব্লিডিংয়ের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুব কম হওয়া।
- মেল হরমোনের আধিক্য: রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে অ্যান্ড্রোজেনের উচ্চ মাত্রা ধরা পড়ে। এর ফলে মুখে অতিরিক্ত অবাঞ্ছিত লোম গজানো বা চুল পড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
- ওভারিতে সিস্ট: আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) করালে ডিম্বাশয়ের পরিধিজুড়ে মাল্টিপল ছোট ছোট সিস্ট ধরা পড়ে।
ওভারিতে সিস্ট মানেই কি অপারেশন?
অনেক নারীই ওভারিতে সিস্ট শব্দটি শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকদের মতে, পিসিওএসের কারণে হওয়া সিস্টগুলো টিউমার কিংবা এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো মারাত্মক বা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। সাধারণ ক্ষেত্রে এই সিস্ট অপসারণের জন্য কোনো ধরনের অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে না। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমেই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
অনিয়মিত পিরিয়ড বা হরমোনজনিত জটিলতায় অবহেলা না করে প্রাথমিক পর্যায়েই একজন বিশেষজ্ঞ গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ নিন।