এখনই কল করুন
আরও যুক্ত হন আমাদের SQUARE Diabetes Care কমিউনিটিতে — একদম বিনামূল্যে।

ডায়াবেটিস: একটি নীরব মহামারী
ডায়াবেটিস এবং বাংলাদেশ
২০৫০ সালের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবেন ২.৩ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ
এ্যানসুলিন

কনটোর প্লাস

ডায়াবেটিস সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নসমূহ :
Q1: ডায়াবেটিস কি?
ডায়াবেটিস শরীরের এমন একটি অবস্থা যখন শরীর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না, বেড়ে যায়। আমাদের শারীরিক শক্তি শর্করা বা সুগারকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে যা পরবর্তীতে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। সুস্থ শরীরে ইনসুলিন নামক হরমোন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। এই ইনসুলিন উৎপন্ন হয় অগ্ন্যাশয় থেকে, যা লম্বা জিহ্বার মতো একটি অঙ্গ। এর অবস্থান পাকস্থলী বা Stomach-এর পেছনে।
Q2: ডায়াবেটিস কত প্রকার ও কি কি?
ডায়াবেটিস মেলাইটাস প্রধানত ৪ প্রকার।
টাইপ-১ ডায়াবেটিস: এই টাইপের ডায়াবেটিসকে পূর্বে ইনসুলিন-নির্ভর ডায়াবেটিস বলা হতো। এক্ষেত্রে শরীরে একেবারেই ইনসুলিন উৎপন্ন হয় না। এই ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় সারাজীবন ইনসুলিন নিতে হয়। টাইপ-১ ডায়াবেটিস সাধারণত তাদের হয়, যাদের জন্মগতভাবে প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা থাকে না। সাধারণত শিশু-কিশোর বয়সে অথবা যেকোনো বয়সে এ রোগ হতে পারে।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস: এই ধরনের ডায়াবেটিস ইনসুলিন-নির্ভর নয়। সাধারণত টাইপ-২ ডায়াবেটিসই বেশিরভাগ লোকের মধ্যে লক্ষ করা যায়। যা অনেকটা বংশগত, অতিরিক্ত ওজন ও শারীরিক পরিশ্রম না করার জন্য হয়ে থাকে। সাধারণত যাদের বয়স ৪০-এর উপরে, তারা এই টাইপের ডায়াবেটিসে বেশি আক্রান্ত হয়।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: গর্ভকালীন সময়ে যে ডায়াবেটিস হয়, তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। এটি সাধারণত সন্তান প্রসবের পর নির্মূল হয়ে যায়।
সেকেন্ডারি ডায়াবেটিস: বিভিন্ন ধরণের রোগ, যেমন: বংশগত, অগ্ন্যাশয়ের রোগ, সংক্রমণ, সার্জারি, অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার ও বিভিন্ন হরমোন জাতীয় ঔষধ সেবনের কারণে যে ডায়াবেটিস পরিলক্ষিত হয়, সেটাকে সেকেন্ডারি ডায়াবেটিস বলা হয়।
Q3: আমি ডায়াবেটিস আক্রান্ত! এর লক্ষণগুলো কি কি?
শরীরে ডায়াবেটিস-এর লক্ষণ সাধারণত নির্ভর করে ডায়াবেটিস-এর ধরন ও স্থায়িত্বের উপর। কোনো কোনো লক্ষণ রক্তের উচ্চ মাত্রার সুগারের সাথেও সম্পর্কযুক্ত, এগুলো হলো— প্রস্রাবের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া, পানি পিপাসা বৃদ্ধি পাওয়া এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পাওয়া। এ ছাড়াও কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যেমন— ওজন কমে যাওয়া, ক্লান্তি বা অবসাদগ্রস্ত হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, প্রস্রাবে সংক্রমণ, চর্মরোগ ও দীর্ঘমেয়াদি ঘা না শুকানো, গর্ভপাত বা গর্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং গর্ভে সন্তান না আসা ইত্যাদি।
Q4: প্রস্রাবে 'সুগার' পরিলক্ষিত হয়, কিন্তু 'রক্ত' পরীক্ষায় সুগারের পরিমাণ স্বাভাবিক দেখা যায়, আমার কি ডায়াবেটিস?
ডায়াবেটিস হয়েছে কি না সেটি নিশ্চিত হতে হলে রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। রক্ত পরীক্ষায় যদি সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে তবে আপনার ডায়াবেটিস হয়নি। কিন্তু যদি প্রস্রাবে ‘সুগার’ থাকে, তাহলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়, তবে নিশ্চিত নয়; যদি সন্দেহ থাকে তবে অন্য একটি বিশেষ পরীক্ষা OGTT করার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে কি না। তবে একটি বিষয় জেনে রাখা ভালো যে, এমন কোনো পরীক্ষা নেই যাতে ভবিষ্যতে আপনার ডায়াবেটিস হবে কি না তা নিশ্চিত করে জানা যায়।
Q5: রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কিভাবে ডায়াবেটিস সনাক্ত করা যায়?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন (ADA)-এর মতে, খালি পেটে গ্লুকোজের মাত্রা ১১০ মি.গ্রা./ডিএল বা ৭.১ মিলিমোল-এর বেশি হলে অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর রক্তে সুগারের মাত্রা ২০০ মি.গ্রা. বা ১১.১ মিলিমোল হলে আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
Q6: কোন পরীক্ষাটি ডায়াবেটিসের জন্য সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য?
OGTT অর্থাৎ Oral Glucose Tolerance Test ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।
Q7: OGTT পরীক্ষা কি? এর দ্বারা কিভাবে ডায়াবেটিস নির্ণয় করা যাবে?
OGTT ডায়াবেটিস নির্ণয়ের নিশ্চিত পরীক্ষা। পরীক্ষাটি ভোরবেলা খালি পেটে করতে হয়। খালি পেট বলতে রাত্রিকালীন খাবারের পর কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা উপবাস থাকাকে বোঝায়, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই যাতে ১৬ ঘণ্টা অতিক্রম না করে। তবে খালি পেট বা উপবাসের সময় পানি পান করা যেতে পারে। প্রথমে খালি পেটে গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে হয়। এরপর একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ানোর দুই ঘণ্টা পর আবার গ্লুকোজ পরীক্ষা করা হয়। যদি খালি পেটে গ্লুকোজের মাত্রা ১১০ মি.গ্রা./ডিএল বা ৭.১ মিলিমোল-এর বেশি হয় অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর রক্তে সুগারের মাত্রা ২০০ মি.গ্রা. বা ১১.১ মিলিমোল হয়, তবে ধরে নিতে হবে ডায়াবেটিস হয়েছে। উল্লেখ্য, দুটি পরীক্ষার একটিতে অর্থাৎ যদি খালি পেটে গ্লুকোজের মাত্রা ১১০ মি.গ্রা./ডিএল বা ৭.১ মিলিমোল-এর বেশি হয় এবং অন্যটি স্বাভাবিক থাকলেও ডায়াবেটিস হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।
Q8: ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য কি করণীয়?
ডায়াবেটিস না হওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করা অত্যাবশ্যক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় মেনে চললে ডায়াবেটিস এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়, যেমন— চিনি বা মিষ্টি জাতীয় জিনিস তুলনামূলক কম খাওয়া, খাবারে লবণ কম খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম করা, চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া এবং ফলমূল ও প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খাওয়া। উপরোক্ত বিধিগুলো মেনে চললে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
Q9: খাদ্য গ্রহণের পূর্বে শরীর খুব দূর্বল লাগা, মাথা ঝিম ঝিম করা, অবসাদগ্রন্থ মনে করা, শরীরে ঘাম ঘাম অনুভূত হওয়া, নিস্তেজ হওয়া কিসের লক্ষণ?
খাদ্যগ্রহণের পূর্বে শরীর খুব দুর্বল হয়ে যাওয়া বা ঘামের ভাব পরিলক্ষিত হওয়া বা বর্ণিত লক্ষণগুলো সাধারণত রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যাওয়ার লক্ষণ, যাকে আমরা ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ বলে থাকি। এই অবস্থায় অবশ্যই আপনার রক্তে সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সুগার কমে গেলে সাথে সাথে চিনি বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খেয়ে নিতে হবে। এরপরও যদি শারীরিক সমস্যা না কমে, তাহলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
Q10: ডায়াবেটিস কি বংশগত রোগ?
ডায়াবেটিসকে বংশগত রোগ বলা যায় না। তবে যাদের পিতা-মাতার বংশে কারও ডায়াবেটিস আছে তাদের এবং যারা অতিরিক্ত ওজনের, অনিয়ন্ত্রিত খাবার গ্রহণ করেন ও শারীরিকভাবে কম পরিশ্রমী, তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণের চেয়ে বেশি। উল্লেখ্য, যাদের বংশে ডায়াবেটিস আছে, তারা যদি নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন অর্থাৎ খাদ্যতালিকায় মিষ্টি জাতীয় খাবার, লবণ, চর্বিযুক্ত খাবার কম পরিমাণে ও সবুজ শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে রাখেন এবং কায়িক পরিশ্রম করেন, তাহলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। তবে ডায়াবেটিস রোধে প্রত্যেক স্বাভাবিক মানুষের নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলিত জীবনযাপন করা উচিত।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন






